-->

বিভিন্ন জ্বরের লক্ষন সূমহ পাঠ ২-Health Tips Banglai 2021

বিভিন্ন জ্বরের লক্ষন সূমহ পাঠ-২ এতে আপনাদের সবাই স্বাগতম। প্রথম পাঠে আলোচনা করেছিলাম সর্দি জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে আর আজকে থাকছে ম্যালেরিয়া ও যক্ষা নিয়ে।

বিভিন্ন জ্বরের লক্ষন সূমহ পাঠ ২-Health Tips Banglai 2021
 

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষন

সব জ্বরের যেমন কিছু লক্ষন থাকে তেমন ম্যালেরিয়া জ্বরের ও রয়েছে ম্যালেরিয়ার লক্ষন হলো শরীরে শীত শীত লাগা ও কাপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। তবে এটা একাদ জনের ক্ষেত্রে একাদ ভাবে হতে পারে যেমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও পেটের সমস্যা হতে পারে। আর বড়দের ক্ষেত্রে শীত লাগা ও কাটুনি সৃষ্টি হওয়া 

আরো কিছু লক্ষন যেমন বমি বমি ভাব,শরীর ঝিমানো,মাথা ব্যাথা ইত্যাদি। শরীরের শক্তি ক্ষয় হতে থাকে এবং নিজেকে দুর্বল মনে হয়। ঘাম দিয়ে জ্বর আসা, রক্তস্বল্পতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, কোমায় আচ্ছন্ন হওয়া ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।


ম্যালেরিয়া রোগ নির্নয়ের পদ্ধতি

ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই আপনার লক্ষন গুলো জেনে রাখা দরকার। যদি লক্ষন গুলো আপনার মধ্যে দেখা দেয় বা আপনার যদি সন্দেহ হয় তবে আপনি রক্ত পরিক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন। তবে আগে না জেনে ওষুধ খাওয়া শুরু করবেন না। প্রথমে রক্ত পরীক্ষা বা টেস্ট করিয়ে নিবেন। এটা করা জরুরি কারন যদি আপনার ম্যালেরিয়া হয়ে থাকে তাহলে রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া যাবে।

ম্যারেরিয়া প্রতিরোধের সঠিক উপায়

ম্যালেরিয়া সাধারন মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এরা মূলত সন্ধ্যা হতে শুরু করে ভোর বা সকাল পর্যন্ত আক্রমন করে থাকে। আর এরা যখন আপনার শরীরে হুল ফোটাবে বা কামড় বসাবে তখন আপনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হবেন।

তাই এটা প্রতিরোধে আপনার বাড়ির আশেপাশে খোলা জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে মশা জন্ম বিস্তার করতে না পারে। শরীরে মশা নিধন ক্রিম লাগাতে পারে,ধুপ জ্বলাতে পারেন ধুপ মশা তাড়াতে খুব কাজ করে, এছাড়া ও আপনি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মশারি ফেলে ঘুমানো এটা সব থেকে উওম।

ম্যারেরিয়া রোগের চিকিৎসা

ম্যালেরিয়া চিকিৎসা হচ্ছে যদি সন্দেহ মনে হয় বা এর লক্ষন গুলো দেখা দেয় তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব এটা পরীক্ষা করে নির্নয় করা। একমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি সঠিক ফল পেতে পারে। পরীক্ষার পর ফল অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহন করুন। এটা কোনো ঘরোয়া পদ্ধতিতে সারানোর উপায় নেই তাই নিজে অযথা কিছু না করে ভালো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা গ্রহন করুন

যক্ষা রোগ

যক্ষা একটি ভয়াবহ অসুখ তবে অসুখটা ভয়াবহ হলেও অসুখের চিকিৎসা টা ফ্রিতে পাওয়া যায়। আপনার পাশের নিকটস্থ টিবি হাসপাতালে এর চিকিৎসা পাবেন।

যক্ষা হলো একটি ব্যাধি যা ফুসফুসকে আক্রামন করে থাকে। আগে মানুষ যক্ষা হলে বা ধরা পরলে হতাশ হয়ে যেতো এবং ভয়ে জীবন যাপন করত, কারণ তখন যক্ষার কোন ঔষধ ছিলনা । এর ফলে সবার মাঝে হতাশা বিরাজ করতো। তবে আজ আর সেই দিন আর নেই, যক্ষার ঔষধ নিয়মিত খেলে যক্ষা সম্পূর্ণরুপে ভালো হয়ে যায়।


যক্ষা কি

যক্ষা হলো এক প্রকার রোগ বা অসুখ যা এক ধরেনর জীবাণুর মাধ্যমে হয়। মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস’ (Mycobacterium tuberculosis) নামক জীবনু হতে। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া । এটি বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে  প্রবেশ করে ফুসফুসে আক্রমন করে।

এই জীবাণু যক্ষা রোগীর কফের সঙ্গে বের হয়ে আসে। তাই কাচা দুধ পান করা নিরাপদ নয় । যক্ষা যে কোন বয়সে মানুষের মধ্যে হতে পারে । তবে এটা দরিদ্র এবং নিম্নমানের জীবন যাপনের মানুষের মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। সচেতনতার অভাব এটার প্রধান কারন।

যক্ষা রোগের লক্ষন

১.যাকে হবে তার মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ খুসখসে কাশি দেখা যাবে ।

২.ওজন কমে যাবে ও সন্ধ্যার সময় অল্প অল্প জ্বর আসতে পারে।

৩. একটা সময় কাশির সঙ্গে রক্ত আসবে, ফুসফুসে পানি জমা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা ইত্যাদি নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিবে ।

৪. শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর আসা, খাওয়ার অরুচি ও ওজন কমে যাওয়া লক্ষন গুলো দেখা দিতে পারে।

তবে  অনেক যক্ষাকে টাইফওয়েড ভেবে ভুল করে এবং ভুল চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। ফলে অসুখ ভালো না হয়ে দিন দিন বাড়তে থাকে। সাধারন জ্বর কয়েক দিনে ভালো হয়ে যায় কিন্তু যদি আপনার আপনার ৩ সপ্তাহের বেশি কাঁশি ও জ্বর থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার যক্ষা পরীক্ষা করা উচিত। দীর্ঘদিন গলা ভাঙ্গা বা স্বর কমে যাওয়া যক্ষার লক্ষণের মধ্যে অন্যতম।

যক্ষার চিকিৎসা

যক্ষা খুবই ভয়াবহ অসুখ সঠিক সময় এল সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যু অনিবার্য। তাই তিন সপ্তাহের অধিক কাশি ও অন্যান্য উপশর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা নিকট পরীক্ষা করান। কারন না জেনে ওষুধ খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাছাড়া ও এর চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি সাধারণ মেডিকেল গুলোতে তবে সরকারি টিবি হাসপাতাল গুলো ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করে।

এমন একটা সময় ছিলো যখন বলা হতো যক্ষা হলে রক্ষা নাই তবে বর্তমানে এটা একটি ভুল ধারনা এখন যক্ষা অনেক চিকিৎসা রয়েছে। তাই আত্মংকিত না হয়ে যক্ষা নির্নয় করুন করুন এবং নিয়মিত চিকিৎসা সুস্থ জীবন ফিরে পান।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post